10/06/2025
ভ্যাটে পরিবর্তন: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার:
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থায় একাধিক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভ্যাট আইনের বিভিন্ন ধারায় সংশোধন এনে এ সংস্কার প্রস্তাব করেছে। এ পরিবর্তনগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং সাধারণ ভোক্তাদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। নিচে ধারাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত আলোচনা তুলে ধরা হলো:
***ধারা ৩১: অগ্রিম কর ও রেয়াতের পরিবর্তন
শিল্পখাতে অগ্রিম কর কমিয়ে ৩ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ করা হয়েছে, যা শিল্পখাতের জন্য স্বস্তিদায়ক।
অন্যান্য খাতে অগ্রিম কর বাড়িয়ে ৫ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশ করা হয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মূল্য সংযোজনের অনধিক ৫০ শতাংশ পরিমাণ পর্যন্ত অতিরিক্ত মূসক আরোপ করা যাবে না।
রেয়াতের মেয়াদ ৪ কর মেয়াদ থেকে বাড়িয়ে ৬ কর মেয়াদ করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক হবে।
***ধারা ৪৬: আমদানিকৃত পণ্যের রেয়াত ও সেবা কর প্রসঙ্গে
আমদানিকৃত পণ্যের রেয়াত আগের ৪ কর মেয়াদ থেকে ৬ কর মেয়াদে উন্নীত করা হয়েছে।
সেবা সরবরাহে মূসক ৪.৩ প্রযোজ্যতা বিষয়ে স্পষ্টতা আনা হয়েছে – এটি সেবা সরবরাহের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
৭.৫% অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন সংক্রান্ত বিভ্রান্তি দূর করে ‘বেয়াত বাতিল’ সংক্রান্ত ব্যাখ্যা সংযুক্ত করা হয়েছে।
***ধারা ৪৭: আংশিক রেয়াত সংক্রান্ত পরিবর্তন
এই ধারায় সম্পূর্ণ বেয়াদ গ্রহণ এবং কর মেয়াদ শেষে বৃদ্ধি সহ সমন্বয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা পূর্বে স্পষ্ট ছিল না।
***ধারা ৫০: হ্রাসকারী সমন্বয়
হ্রাসকারী সমন্বয়ের মেয়াদ ৩ কর মেয়াদ থেকে বাড়িয়ে ৬ কর মেয়াদ করা হয়েছে।
মূসক ৬.৬ ধারা অনুযায়ী এ পরিবর্তন কার্যকর হবে।
***ধারা ৬৪: দাখিলপত্র জমার সময়সীমা
ব্যাংক, বীমা ও শুন্য দাখিলপত্রের ক্ষেত্রে সময়সীমা ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ২০ দিন করা হয়েছে, যা করদাতাদের জন্য সময়সীমা মানা সহজ করবে।
***ধারা ৮৩: তল্লাশি ও জারিমানার ক্ষমতায় পরিবর্তন
সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে – বিভাগীয় কর্মকর্তার লিখিত আদেশক্রমে, স্থানীয় ভ্যাট কার্যালয়ের এলাকা পরিদর্শন, তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রয় যাচাইয়ের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
জারিমানার পরিমাণ কিছু ক্ষেত্রে হ্রাস করা হয়েছে:
দাখিলপত্র জমা না দিলে ৫,০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২,০০০ টাকা।
অতিরিক্ত রেয়াত গ্রহণে জারিমানা: এখন অন্তত ৩০% এবং অনধিক ৫০% নির্ধারণ করা হয়েছে।
মূসক দলিল সংরক্ষণ না করলে জরিমানা ১ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা।
***ধারা ১০৬ ও ১০৭: কিস্তি ও সফটওয়্যার সংরক্ষণ
বকেয়া কর পরিশোধের কিস্তি সংখ্যা ১২ মাস থেকে বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়েছে, যা করদাতাদের অর্থনৈতিক চাপ কমাবে।
ERP ও ভ্যাট সফটওয়্যার ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে – কর হিসাব এখন সার্ভারে সংরক্ষণের সুযোগ থাকছে।
*** প্রথম তফসিল: বেতন ও কর প্রযোজ্যতা
কর্মচারী কর্তৃক প্রদত্ত সেবা বা ব্যবসায়িক পরিচালকদের বেতন ও সম্মানী ভ্যাট আওতায় পড়বে কি না – এ বিষয়ে স্পষ্টতা আনা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে প্রয়োগের ক্ষেত্রে দ্বিধা কমাবে।